দলিলসহ নামাযের মাসায়েল [বর্ধিত সংস্করণ]

A+ A-

কিছু লোকের বাড়াবাড়ির ফলে আমাদের মহান পূর্বসূরিগণের একটি জামাতের গুরুত্ব দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এ জামাতটি হলো ফকীহ ও মুজতাহিদগণের জামাত। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে হিজরী দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এ জামাতের গুরুত্ব ছিল প্রায় সর্বজন স্বীকৃত।


বলাবাহুল্য, আল্লাহ তায়ালা কুরআন ও সুন্নাহ সংরক্ষণের যে জিম্মাদারি নিজেই গ্রহন করেছেন, তার প্রেক্ষিতেই তিনি উম্মতের এক এক জামাতকে এক একটি দিক সংরক্ষণের কাজে লাগিয়েছেন। কাউকে দিয়ে ব্যকরণ, কাউকে দিয়ে বালাগাত বা অলংকারের দিক সংরক্ষণ করিয়েছেন। কাউকে দিয়ে কুরআনের পঠন রীতি, কিরাআত ও তাজবীদ সংরক্ষণের খেদমত নিয়েছেন। হিফজ করার তাওফীক দিয়ে লক্ষ লক্ষ হাফেজে কুরআন ও হাফেজে হাদীস সৃষ্টি করে কুরআন-সুন্নাহর শব্দ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। একই ধারাবাহিকতায় বিশাল এক জামাতকে এর অর্থ ও মর্ম নির্ণয়ন, উদ্ঘাটন, শরীয়তের বিধিবিধান আহরণ ও আবিস্কারের কাজে লাগিয়ে দিয়ে কুরআন-সুন্নাহ’র মর্ম সংরক্ষণ করেছেন। পরিভাষায় এঁদেরকেই বলা হয় মুজতাহিদ ও ফকীহ। এমন মহান জামাতের গুরুত্বকে অস্বীকার করা প্রকারান্তরে দীন ও ইসলাম সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি ও নির্ভুল অনুধাবন থেকে বঞ্চিত থাকারই নামান্তর।


প্রশ্ন হতে পারে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলতে বলেছেন। কোন ফকীহ বা মুজতাহিদের দারস্থ হতে বলেন নি। উত্তরে বলব, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো ঐ হাদীসে আরবী ব্যকরণ, বালাগাত, অভিধান, হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি, হাদীসবিদগণের পরিভাষা, রিজাল শাস্ত্র বা হাদীস বর্ণনাকারীদের জীবনীমূলক গ্রন্থসমূহ ইত্যাদি বিষয়ে পড়ালেখার কথাও বলেন নি। এমনকি কোন তাফসিরবিদ ও হাদীসবিদের দ্বারস্থ হতেও বলেন নি। তাহলে কি এসব ছাড়াই কুরআন-সুন্নাহ বোঝা যাবে এবং তদনুযায়ী আমল করা সম্ভব হবে? যদি বলা হয়, এসবের প্রয়োজনীয়তা

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 1

বলার অপেক্ষা রাখে না, তাহলে বলব, মুজতাহিদ ইমামগণের প্রয়োজনীয়তা ও মুখাপেক্ষিতাও একইভাবে বলার অপেক্ষা রাখে না।


একটি আয়াত বা হাদীসেই সবকিছু খুঁজতে চেষ্টা করা আমাদের একটি বড় দোষ । কুরআন-হাদীসের সবটুকু নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যাবে, মুজতাহিদ ইমামগণের দ্বারস্থ হওয়ার আদেশও আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি প্রমাণ তুলে ধরা হলো :


এক. একটি প্রমাণ হাফেজ ইবনুল কায়্যিম রহ. তার ই’লামুল মুয়াক্কিয়ীন গ্রন্থে (১/৮) ‘ইসলামের ফকীহগণের ফযীলত ও মর্যাদা’ শিরোনামে (فقهاء الإسلام ومنزلتهم) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন,


القسم الثاني: فقهاء الإسلام، ومن دارت الفتيا على أقوالهم بين الأنام، الذين خصوا باستنباط الأحكام، وعنوا بضبط قواعد الحلال والحرام؛ فهم في الأرض بمنزلة النجوم في السماء، بهم يهتدي الحيران في الظلماء، وحاجة الناس إليهم أعظم من حاجتهم إلى الطعام والشراب، وطاعتهم أفرض عليهم من طاعة الأمهات والآباء بنص الكتاب، قال الله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خير وأحسن تأويلا} [النساء: ٥٩] قال عبد الله بن عباس في إحدى الروايتين عنه وجابر بن عبد الله والحسن البصري وأبو العالية وعطاء بن أبي رباح والضحاك ومجاهد في إحدى الروايتين عنه: أولو الأمر هم العلماء، وهو إحدى الروايتين عن الإمام أحمد.


وقال أبو هريرة وابن عباس في الرواية الأخرى وزيد بن أسلم والسدي ومقاتل: هم الأمراء، وهو الرواية الثانية عن أحمد [طاعة الأمراء تابعة لطاعة العلماء]


والتحقيق أن الأمراء إنما يطاعون إذا أمروا بمقتضى العلم؛ فطاعتهم تبع لطاعة العلماء

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 2

অর্থাৎ দ্বিতীয় ভাগ হলেন ইসলামের ফকীহবৃন্দ। ঘুরে ফিরে যাদের মতানুসারেই ফতোয়া দেওয়া হয়। যাদেরকে বিধিবিধান আহরণ ও নির্গতকরণের কাজে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। তারা হালাল-হারামের নীতিমালা প্রণয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পৃথিবীতে তারা ঠিক আকাশের তারকারাজির মতোই ছিলেন। যা দেখে অন্ধকারে দিশাহীনরা সঠিক পথের দিশা পায়। মানুষ পানাহারের যতটা না মুখাপেক্ষী, তার চেয়ে ঢেড় বেশি তাদের মুখাপেক্ষী ছিলেন ও আছেন। তাদের আনুগত্য মাতা-পিতার আনুগত্যের চেয়েও বড় ফরজ। এর প্রমাণ কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্য। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূল ও তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর’এর আনুগত্য করা। যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিবাদ হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের সমীপে পেশ কর। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে থাক । এটাই সর্বোত্তম ও পরিণামে সর্বাধিক সুন্দর। (নিসা : ৫৯)


এক বর্ণনামতে ইবনে আব্বাস রা., জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা., হাসান বসরী, আবুল আলিয়া, আতা ইবনে আবূ রাবাহ, দাহহাক ও এক বর্ণনামতে মুজাহিদ বলেছেন, (উক্ত আয়াতে উল্লিখিত) ‘উলুল আমর' হলেন আলেমগণ। ইমাম আহমাদের একটি মতও অনুরূপ। আবার আবু হুরায়রা রা., অপর বর্ণনায় ইবনে আব্বাস রা., যায়দ ইবনে আসলাম, সুদ্দী ও মুকাতিল বলেছেন, উলুল আমর তারা, যারা নেতৃত্ব-কতৃত্বের অধিকারী। আহমাদের অপর একটি মতও অনুরূপ। সত্য কথা হলো, নেত্বত্ব-কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের কথাও কেবল তখনই মানা যাবে, যখন তারা ইলম ও দ্বীনী জ্ঞানের আলোকে আদেশ দেবেন। সুতরাং তাদের আনুগত্যও আলেমগণের আনুগত্যের অধীন। (দ্র. ১/৮)


দুই. আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন,


{ فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ ١٢٢ }


অর্থ, তাদের (মুসলিমদের) একটি গোত্র থেকে একদল লোক কেন (রাসূলের সঙ্গে) বের হয় না? যাতে তারা দীনের সঠিক বুঝ লাভ করতে

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 3

পারে এবং ফিরে এসে নিজ গোত্রের লোকদেরকে সতর্ক করতে পারে। এতে তারাও হয়তো বেঁচে থাকতে পারবে। (তাওবা, ১২২)


এ আয়াতে কিছু লোককে দ্বীনের ফকীহ হতে বলা হয়েছে। নিজ গোত্রেরলো কদেরকে সতর্ক করতে ও দ্বীনের সঠিক জ্ঞানের আলোকে পরিচালিত করতেও বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে গোত্রের লোকদেরকেও তাদের নির্দেশনা অনুসারে চলতে বলা হয়েছে। সুতরাং কিছু মানুষ দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ সমঝ-বুঝ অর্জন করবে, আর কিছু মানুষ তাদের শিক্ষাদীক্ষা গ্ৰহণ করে জীবন চালাবে- এটাই কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশনা।


একথা বহু হাদীস থেকেও বোঝা যায়, বুখারী শরীফে একটি হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বাভাষ সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহ এলেম তুলে নেবেন আলেমকে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে । অবশেষে যখন তিনি কোন আলেম অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষ মূৰ্খ ও অজ্ঞদেরকেই অনুসৃত বানিয়ে নেবে। তারা জিজ্ঞাসিত হলে সঠিক এলেম ছাড়াই ফতোয়া দিয়ে বসবে। ফলে নিজেরাও গোমরাহ হবে, অন্যদেরকেও গোমরাহ করবে। (হা. ১০০ )


এ হাদীস প্রমাণ করে যে, কিছু মানুষ ফতোয়া দেন, আর কিছু মানুষ তার অনুসরণ করেন। ফতোয়া দানকারীগণ যদি যথানিয়ম অনুসরণ করে পর্যাপ্ত ও সঠিক উপায়ে লব্ধ জ্ঞানের আলোকে ফতোয়া দিয়ে থাকেন, তবে তারা ও তাদের অনুসারীরা সঠিক পথেই প্রতিষ্ঠিত থাকবেন। কিয়ামতের লক্ষণ জাহির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এমন অবস্থাই চলতে থাকবে। পক্ষান্তরে ফতোয়া দানকারীরা যদি এর বিপরীত করেন তবে নিজেরাও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবে, সেই সঙ্গে অন্যদের বিচ্যুতিরও কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিয়ামতের পূর্বে এমন অবস্থাই বিরাজ করবে।


 


ফকীহগণের বৈশিষ্ট্যাবলী


ক. তারা কুরআন-সুন্নাহর কোনটি মানসুখ (রহিত), কোনটি নাসিখ (রহিতকারী) সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 4

খ. কোন বিধানটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিসত্তার সঙ্গে খাছ, আর কোনটি উম্মাহর সকল ব্যক্তির জন্য ব্যাপক, তাও তারা ভালভাবে জানতেন।


গ. কুরআন-সুন্নাহ'য় যেসব বিধান এসেছে, সেসবের অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করে সেসব কারণ আরো যেসব বিষয়ে বিদ্যমান, সেসবকেও একই বিধানের আওতাভুক্ত সাব্যস্ত করে তারা দ্বীন-ইসলামকে চলমান ও জীবন্ত ধর্মের রূপে দৃশ্যমান করেছেন। এতে করে হাজার হাজার নিত্য নতুন সমস্যার সমাধান লাভ করা সহজ হয়েছে। এ মহান কাজটি না হলে দ্বীন-ইসলামকেও অন্যান্য ধর্মের মতো বন্ধ্যাত্ব বরণ করতে হতো।


ঘ. কুরআন-সুন্নাহ থেকে তারা যেমন শরীয়তের নীতিমালা আহরণ ও উদ্ধার করেছেন, তেমনি এক একটি আয়াত ও হাদীস থেকে বহু সমস্যার সমাধান বের করেছেন। কুরআন-সুন্নাহ'র দালালত ও নির্দেশনা, ইকতিযা ও দাবী এবং ইশারা ও ইঙ্গিত থেকে তারা উদ্ভূত ও অনুদ্ভূত বহু মাসাইলের সমাধান দিয়ে গেছেন।


ঙ. আয়াত ও হাদীসের মর্ম সম্পর্কে তারাই সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন। এটা আল্লাহ তায়ালারই নিজাম বা সুষ্ঠু পরিচালনা বৈ কি। কুরআন ও হাদীসের হাফেজগণকে দিয়ে তিনি যেমন শব্দ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন, তেমনি ফকীহগণের মাধ্যমে মর্ম সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছেন। একথা মুহাদ্দিসীন বা হাদীসবিদগণও স্বীকার করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, كذلك قال الفقهاء وهم أعلم بمعاني الحديث অর্থাৎ ফকীহগণ এমনটাই বলেছেন । আর হাদীসের মর্ম সম্পর্কে তারাই সবিশেষ জ্ঞাত। (হা. ৯৯০)


এসব কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস অন্বেষণকারী মুহাদ্দিসকে উৎসাহিত করেছেন, কোন হাদীস শুনলে তা এমনভাবে প্রচার কর, যাতে হাদীসটি কোন ফকীহ'র হাতে এসে পৌঁছে। তিনি ইরশাদ করেছেন,


نَضَرَ اللَّهُ امْرَأَ سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهِ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهِ لَيْسَ بِفَقِيهِ

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 5

আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে ঔজ্জ্বল্য দান করুক, যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা স্মরণ রাখল ও পৌঁছে দিল। অনেক ব্যক্তি সমঝদারির কথা তার চেয়ে ফকীহ ও সমঝদার ব্যক্তির নিকট পৌছে দেয়, অনেক সমঝদারি কথার বাহক ফকীহ বা সমঝদার নয় । (আবু দাউদ, হা. ৩০৫৬)


এ হাদীস থেকে যেমন বোঝা গেল, সকল হাদীস বর্ণনাকারী সমঝদারির ক্ষেত্রে সমান নয়, তেমনি বোঝা গেল, সমঝদার ব্যক্তি ঐ হাদীস থেকে যা বুঝবেন অন্যদের উচিৎ হবে তার অনুসরণ করা।


আ'মাশ রহ.এর উক্তি থেকেও একথা প্রমাণিত হয়। আবু সুলায়মান আ'মাশ ইমাম আবু হানীফার উস্তাদ ছিলেন। ছিলেন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস বা হাদীসবিদও। বুখারী-মুসলিমসহ সকল মুহাদ্দিস তার বর্ণিত হাদীস প্রমাণস্বরূপ উদ্ধৃত করেছেন। একদিন জনৈক ব্যক্তি এসে তাকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করল। তিনি জবাব দিতে পারলেন না। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইমাম আবু হানীফা। তিনি অনুমতি নিয়ে জবাব দিলেন। আ'মাশ রহ. বিস্ময়াভিভূত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কোথায় পেয়েছ ? আবু হানীফা রহ. বলেলেন, কেন, আপনিই তো অমুকের সূত্রে অমুক থেকে এ হাদীস আমাকে শুনিয়েছেন! এভাবে তিনি একাধিক সূত্রে আ’মাশের হাদীসগুলো এক মুহূর্তেই তার সামনে তুলে ধরেন। আ'মাশ তখন বললেন, أيها الفقهاء أنتم الأطباء ونحن الصيادلة অর্থাৎ ফকীহগণ! তোমরাই চিকিৎসক, আর আমরা ঔষধ বিক্রেতা। (আবু নুআয়ম, মুসনাদ আবু হানীফা, ১/২২; আল কামিল, ৮/২৩৮)


ঔষধ বিক্রেতারা জানে না, কোন ঔষধ কি কাজে লাগে। এটা ডাক্তার ও চিকিৎসকই বলতে পারেন। হাদীসের ক্ষেত্রেও তেমনি অনেকে হাদীসটির ধারক-বাহক হন বটে, কিন্তু উক্ত হাদীস থেকে মাসআলার সমাধান বের করা ফকীহগণেরই কাজ।


 


মুহাদ্দিসগণও ফকীহগণের কদর বুঝতেন


আ'মাশ রহ.এর উপরোক্ত উক্তিটি সোনার হরফে লিখে রাখার মতো। এতে ফকীহগণের মর্যাদার প্রকৃত চিত্র ফুঠে উঠেছে। তার মতো অনেক

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 6

সেরা সেরা মুহাদ্দিস ফকীহগণের যথাযোগ্য কদর করতেন। নিম্নে তাদের কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরা হলো :


১. ইমাম মালেক বলেছেন, ما كنا نأخذ الحديث إلا من الفقهاء অর্থাৎ আমরা কেবল ফকীহগণের কাছ থেকেই হাদীস গ্রহণ করতাম। (কাজী ইয়ায, তারতীবুল মাদারিক, ১/১২৪)


২. আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী একজন শীর্ষ মুহাদ্দিস। বুখারী- মুসলিমের দাদা উস্তাদ। তিনি বলেছেন, مَا أُصَلِّي صَلاَةً إِلاَّ وَأَنَا أَدْعُو لِلشَّافِعِيِّ فِيْهَا অর্থাৎ আমি যখনই নামায পড়ি তখনই শাফেয়ীর জন্য দুআ করি। (সিয়ারুয যাহাবী, ইমাম শাফেয়ীর জীবনী)


৩. ইমামুল জারহি ওয়াত তাদীল ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল কাত্তান বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও হাফেজে হাদীস ছিলেন। তিনি ইমাম বুখারী ও মুসলিমের দাদা উস্তাদ ছিলেন। তিনি বলেছেন, أَنَا أَدْعُو اللهَ لِلشَّافِعِيِّ فِي صَلاَتِي مُنْذُ أَرْبَعِ سِنِيْنَ অর্থাৎ আমি চার বছর যাবৎ নামাযে (ইমাম) শাফেয়ীর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করি। (প্রাগুক্ত)


৪. আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ খুরায়বী ছিলেন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও বুখারী শরীফের রাবী । তিনি বলতেন, يجب على أهل الإسلام أن يدعو الله لأبي حنيفة في صلاتهم وذكر حفظه عليهم السنن والفقه মুসলমানদের কর্তব্য হলো নিজ নিজ নামাযে আল্লাহর নিকট আবু হানীফার জন্য দুআ করা। এ প্রসঙ্গে তিনি (খুরায়বী) মুসলমানদের জন্য তাঁর (আবু হানীফার) সুন্নাহ ও ফেকাহ সংরক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন। (খতীব বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ, ১৫/৪৫৯)


৫. ইমাম আহমাদ বলেছেন, وإني لأدعو للشافعي منذ أربعين سنة في صلاتي অর্থাৎ আমি নামাযে চল্লিশ বছর যাবৎ শাফেয়ীর জন্য দুআ করি। (প্রাগুক্ত)

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 7
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 8
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 9
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 10
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 11
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 12
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 13
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 14
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 15
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 16
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 17
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 18
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 19
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 20
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 21
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 22
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 23
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 24
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 25
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 26
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 27
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 28
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 29
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 30
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 31
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 32
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 33
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 34
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 35
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 36
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 37
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 38
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 39
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 40
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 41
দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 42

তার সঙ্গে ফেকাহ শিক্ষা করলাম, এতে তোমরা তে দেখতেই পাচ্ছ সে কেমন বুৎপত্তি অর্জন করেছে। (যাহাবী, মানাকিবু আবী হানীফা, পৃ. ৪৩)
এমনিভাবে ওয়াকী সম্পর্কে ইয়াহয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, وكان قد fofar RT CRC D سمع من أبي حنيفة حديثا كثيرا শুনেছেন। (ইবনে আব্দুল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ২/১০৮২)
ইবনে আব্দুল বার আল ইনতিকা গ্রন্থে লিখেছেন, وروی حماد بن زید عن أبي حنيفة أحاديث كثيرة আবু হানীফা থেকে হাম্মাদ ইবনে যায়দ বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (পৃ. ২০১)
روى عنه من المحدثين والفقهاء عدة لا يحصون RC থেকে অসংখ্য মুহাদ্দিস ও ফকীহ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (মানাকিব, পৃ. ২০)
হাফেজ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস সালেহী বলেছেন, إن الإمام أبا حنيفة من كبار حفاظ الحديث ولولا كثرة اعتنائه بالحديث
ما تهيأ له استنباط مسائل الفقه فإنه أول من استنبطه من الأدلة
ইমাম আবু হানীফা একজন শীর্ষ হাফেযে হাদীস। তিনি যদি অধিক হারে হাদীস অর্জন না করতেন, তবে তাঁর পক্ষে ফিকহের মাসাইল আবিস্কার করা সম্ভব হতো না। কুরআন-সুন্নাহ থেকে তিনিই তো প্রথম (মাসাইল) আবিস্কার করেছেন। (উকুদুল জুমান, পৃ. ৩১৯)
মুহাদ্দিস ইসমাঈল আজলুনী লিখেছেন,
فهو رضي الله عنه حافظ حجة فقيه لم يكثر في الرواية لما شدد في
شروط الرواية والتحمل وشروط القبول
তিনি ছিলেন হাফেজে হাদীস, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব ও ফকীহ। তবে হাদীস অর্জন ও বর্ণনার শর্তাবলি ও হাদীস গ্রহণের শর্তাবলির ক্ষেত্রে তিনি কড়াকড়ি করেছেন। ফলে তিনি অধিক হারে হাদীস বর্ণনা করেন নি। (ইকদুল জাওহারিছ ছামীন, পৃ. ৬)

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 43

সকল ফকীহরই নির্ভরতা ছিল সহীহ হাদীসের উপর
প্রসিদ্ধ চার ইমামসহ সকল মুজতাহিদ ফকীহই নির্ভর করেছেন সহীহ হাদীসের উপর। কারণ তাদের সকলের ঐকান্তিক চেষ্টা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী ও কর্ম সঠিকভাবে ধরতে পারা। ফলে এ ক্ষেত্রে সহীহ হাদীসের বিকল্প ছিল না। ইমাম আবু হানীফা তাঁর মূলনীতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন,



، فما لم أجده فيه أخذ بسنة رسول الله أني أخذ بكتاب الله إذا وجدته ، فـ والآثار الصحاح عنه التي فشت في أيدي الثقات عن الثقات فإذا لم أجد في كتاب الله ولا سنة رسول الله أخذت بقبول أصحابه من شئت وأدع قول من شئت ثم لا أخرج عن قولهم إلى قول غيرهم فإذا انتهى الأمر إلى إبراهيم والشعبي والحسن وعطاء وابن سيرين وسعيد بن المسيب وعدد رجالا فقوم قد احتجوا فلي أن أجتهد كما اجتهدوا.


আমি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) অনুসারে আমল করি, যদি সেখানে পাই। অন্যথায় রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ ও তাঁর থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস অনুসারে আমল করি, যা বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের সূত্রে বিশ্বস্তদের হাতে হাতে ছড়িয়ে আছে। যদি কুরআন ও সুন্নাহর কোথাও না পাই তবে সাহাবীগণের যার মত পছন্দ হয় গ্রহণ করি, যার মত পছন্দ হয় না গ্রহণ করি না। তবে তাঁদের মতের বাইরেও আমি যাই না। আর যখন ইবরাহীম নাখায়ী, শা'বী, হাসান, আতা, ইবনে সীরীন ও সাঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব- আরো অনেকের নাম বলেছেন- প্রমুখ পর্যন্ত ব্যাপারটা গড়ায়, তো তাঁরাও ইজতেহাদ করেছেন, আমিও তাদের মতো ইজতেহাদ করেছি। (আল ইনতিকা, পৃ. ২৬৪, ২৬৫)



সুফিয়ান ছাওরীও ইমাম আবু হানীফার নীতি সম্পর্কে অনুরূপ বলেছেন। তিনি বলেছেন,



يأخذ بما صح عنده من الأحاديث التي كان يحملها الثقات وبالآخر من
فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم وبما أدرك عليه علماء الكوفة

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 44

৪৫ দলিলসহ নামাযের মাসায়েল
বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বর্ণনাকৃত যেসব হাদীস তাঁর নিকট সহীহ বলে প্রমাণিত হতো, তিনি সে অনুযায়ী আমল করতেন, আমল করতেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ আমল অনুযায়ী এবং কুফর আলেমগণকে যেভাবে আমল করতে দেখেছেন, সে অনুযায়ী। (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৬২)
বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাসান ইবনে সালেহও বলেছেন,
كان النعمان بن ثابت فهما بعلمه متثبتا فيه ، إذا صح عنده الخير عن
رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يعده إلى غيره
নুমান ইবনে ছাবিত (আবু হানীফা) নিজের ইলম সম্পর্কে বোদ্ধা ছিলেন এবং এক্ষেত্রে খুব পাকা ও সুদৃঢ় ছিলেন। তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সহীহ প্রমাণিত হলে তিনি সেটা ছেড়ে অন্য কিছু অবলম্বন করেন না। (ইবনে আবুল আওয়াম, ফাযাইলু আবী হানীফা, নং ১১৯)
হাফেজে হাদীস ঈসা ইবনে ইউনুস বলেছেন كان النعمان بن ثابت
شديد الاتباع لصحيح حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ছাবিত (আবু হানীফা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ হাদীস কঠিনভাবে অনুসরণ করতেন। (প্রাগুক্ত, নং ২৬৭)
একটি ধারণা ও তার খণ্ডন
কেউ কেউ মনে করেন, ইমাম ও ফকীহগণ যদি সকলেই সহীহ হাদীস মেনে চলতেন, তবে তাদের মধ্যে মতভিন্নতা হত না। অথচ বাস্তবতা হলো, তাদের মধ্যে মতভিন্নতা হয়েছে।
কিন্তু এমন মনে করাটা সঠিক নয়। এমন ভাসা ভাসা ধারণা কোন সাধারণ মানুষ করলে করতে পারে। কোন আলেমের জন্য, আসবাবে এখতেলাফ বা মতভিন্নতার কারণ সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির জন্য এমন ধারণা পোষণ করার সুযোগ নেই। ফকীহ ইমামগণ ও তাদের মতের অনুসারীদের কথা না হয় বাদই দিলাম। যুগে যুগে যারা মাযহাব অনুসরণ না করে সহীহ হাদীস অনুসরণের দাবী করেছেন, তাদের মধ্যেও অসংখ্য মতভিন্নতা দেখা

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 45

যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক সাহেবের রচিত 'উম্মাহর ঐক্য পথ ও পন্থা' পুস্তকটি ৭৪-৭৮ পৃষ্ঠা দেখা যেতে পারে। এখানে মোটা মোটা কয়েকটি উদাহরণ পেশ করা হচ্ছে:
ক. আলবানী সাহেব বলেছেন, জাহরী নামাযে মুকতাদী সুরা ফাতেহা পাঠ করবে না। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশের লা মাযহাবী ভাইয়েরা বলে থাকেন, জাহরী ও সিররী সব নামাযেই তা পড়তে হবে।
খ. আলবানী সাহেব বলেছেন, সেজদায় যেতে প্রথমে হাত পরে হাঁটু রাখা ফরজ। আসাদুল্লাহ গালিব বলেছেন, সুন্নত। শায়খ বিন বায ও শায়খ উছায়মীন বলেছেন, এমনটা করবে না, বরং সুন্নত হলো আগে হাঁটু রাখা, পরে হাত।
গ. ইমাম বুখারী বলেছেন, রুকু পেলে রাকাত পাওয়া ধর্তব্য হবে না। আমাদের অনেক লা মাযহাবী ভাইও অনুরূপ বলে থাকেন। অপরদিকে শায়খ বিন বায, শায়খ উছায়মীন, আলবানী প্রমুখ বলেছেন, রুকু পেলে রাকাত পাওয়া ধর্তব্য হবে।
ঘ. শাওকানী সাহেব বলেছেন, ইকামত জোড়া জোড়া শব্দে বলা উত্তম। মুবারকপুরী বলেছেন, বেজোড় শব্দে বলা উত্তম।
এ বিষয়গুলো এই গ্রন্থেই বরাত উল্লেখসহ বিস্তারিত লেখা হয়েছে।
ঙ. শায়খ বিন বায বলেছেন, রুকু থেকে ওঠার পর পুনরায় হাত বাঁধবে। বাকর আবু যায়দ বলেছেন, পুনরায় হাত বাঁধবে না।
সহীহ হাদীস অনুসারে চলার দাবীদার এসব আলেমদের মধ্যে যদি দ্বিমত হতে পারে, তবে মুজতাহিদ ইমাম ও ফকীহগণের মধ্যেও দ্বিমত হওয়া স্বাভাবিক। যদিও তাদের প্রত্যেকেরই নীতি ছিল সহীহ হাদীস অনুসারে চলা।
কেউ কেউ বলে থাকেন, ইমামগণের ঐ নীতি ছিল সেই কথা ঠিক। কিন্তু সব সহীহ হাদীস তো তাদের নিকট নাও পৌঁছতে পারে। এমতাবস্থায় তাদের কোন একজনকে অনুসরণ করলে সহীহ হাদীস অনুসারে চলা নাও হয়ে উঠতে পারে। একথাটি একেবারে অমূলক নয়। তবে কোন হাদীসটি ইমামগণের নিকট পৌঁছেছে আর কোনটি পৌছে নি সেই ফয়সালা করবে কে? বিশেষ করে যে প্রসিদ্ধ মতভেদপূর্ণ মাসায়েলের

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 46

ক্ষেত্রে একথা বলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হয় সেসবগুলোতেই দেখা যায়, সহীহ হাদীসগুলো ইমামগণের নিকট পৌঁছেছে। তারা সেগুলো অনুযায়ী আমল করেছেন ও ফতোয়া দিয়েছেন অথবা সেগুলোর ব্যাখ্যা পেশ করে বিপরীত সহীহ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আবু হানীফার কথাই ধরা যাক, বিরোধপূর্ণ প্রসিদ্ধ সব মাসায়েলের পক্ষে তার নিকট সহীহ হাদীস বিদ্যমান ছিল। আবার অন্যরা যেসব সহীহ হাদীস অনুসারে আমল করেন এবং বলে থাকেন, এই হাদীসগুলো হয়তো তার নিকট পৌঁছে নি, সেগুলোও তার অজানা ছিল না। সেগুলোর অধিকাংশই তিনি রেওয়ায়েত করেছেন। এর জন্য মুরতাযা হাসান যাবীদী কৃত 'উকুদুল জাওয়াহিরিল মুনীফা' কিতাবটি দেখা যেতে পারে। আবার এসব মাসায়েলের প্রায় সব কটিতেই তার সঙ্গে সহমত ব্যক্ত করেছেন সুফিয়ান ছাওরী। তিরমিযী শরীফ দেখলেই এ তথ্য পাওয়া যাবে। সুফিয়ান তো ছিলেন আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস- হাদীসের সম্রাট ও মহাসাগর। তার ব্যাপারে তো এই সন্দেহ হওয়ার কথা নয় যে, ঐ সব সহীহ হাদীস তার নিকট পৌছে নি। সুতরাং দলিলপ্রমাণ ছাড়া এসব কথা বলে লাভ নেই।



হ্যাঁ, সামগ্রিক বিচারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হানাফী বড় বড় মুহাদ্দিস ও ফকীহ- যাদেরকে আসহাবুত তারজীহ (অগ্রগণ্য আখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ) বলা হয়- চিহ্নিত করেছেন যে, সেসব ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফার নিকট সহীহ হাদীস পৌঁছে নি। ফলে কোথাও তাঁরা ইমাম আবু হানীফার বিশিষ্ট শিষ্য ইমাম কাযী আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতকে- যা সহীহ হাদীস অনুসারে হওয়া প্রমাণিত- অগ্রগণ্য আখ্যা দিয়েছেন। কোথাও তাঁদের দুজনের কোন একজনের মতকে, কোথাও আবার ইমাম যুফার বা হাসান ইবনে যিয়াদের- এ দুজনও ছিলেন ইমাম আবু হানীফার বিশিষ্ট শিষ্য- মতকে অগ্রগণ্য আখ্যা দিয়েছেন। এভাবে আজকে যাদের মাথায় এমন সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে, বহু পূর্বেই হানাফী মনীষীগণ তার গোড়া কেটে দিয়েছেন। ফলে এখন আর এমন সন্দেহ পোষণ করার কোন অবকাশ নেই। অন্যান্য মাযহাব সম্পর্কেও এই একই
কথা।
1

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 47

সব সহীহ হাদীসই কি আমলযোগ্য?



প্রকাশ থাকে যে, 'সহীহ' একটি পারিভাষিক শব্দ। মুহাদ্দিসগণ এ শব্দটি বহু অর্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো, যখন এটি যঈফের বিপরীত শব্দরূপে ব্যবহৃত হয়। এরও রয়েছে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও অনেক শর্ত। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, অনেক আলেমও এর সংজ্ঞা ও শর্তের খবর রাখেন না। অথচ সাধারণ মানুষের মুখে একথা তুলে দেওয়া হয়েছে, সহীহ হাদীস অনুসারে আমল করতে হবে।



কিন্তু এই শেষোক্ত সহীহ'র কথাই যদি ধরি, তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায়, সব সহীহ হাদীসই কি আমলযোগ্য? নাকি এর জন্য আরো কোন শর্ত রয়েছে? হ্যাঁ, শর্ত অবশ্যই রয়েছে। যেমন:



১. হাদীসের বিধানটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য খাস না হতে হবে।



২. হাদীসটি মানসুখ বা রহিত না হতে হবে। এ দুটি শর্ত সর্বজনস্বীকৃত।



৩. হাদীসটি অনুসারে সাহাবা, তাবিঈন ও মুজতাহিদ ইমামগণের আমল থাকতে হবে। আমল না থাকা রহিত হওয়ার আলামত।



ইমাম মালেক রহ. বলেছেন,
كان محمد بن أبي بكر بن عمرو بن حزم على القضاء بالمدينة فكان إذا
قضى القضاء مخالفا للحديث ورجع إلى منزله قال له أخوه عبد الله بن أبي بكر وكان رجلا صالحا أي أخي قضيت اليوم في كذا كذا بكذا وكذا؟ فيقول له محمد : نعم أي أخي، فيقول له عبد الله : فأين أنت أي أخي عن
الحديث أن تقضي به؟ فيقول محمد : أيهات فأين العمل يعني ما اجتمع
عليه من العمل بالمدينة والعمل المجتمع عليه عندهم أقوى من الحديث.
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আমর ইবনে হাযম (তাবিঈ) মদীনার কাযী বা বিচারক ছিলেন। তিনি যখন হাদীসের বিপরীত রায় দিতেন এবং ঘরে ফিরে আসতেন, তার ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর-

দলিলসহ নামাযের মাসায়েল / 48