শরহু মা‘আনী আল-আছার (বাংলা)

A+ A-

شرح معاني الآثار


 


অধ্যায়: তাহারাত (পবিত্রতা সম্পর্কে রাসূল থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে)


১. অনুচ্ছেদ: পানিতে নাপাকি পতিত হওয়া প্রসঙ্গে


١ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ بْنِ رَاشِدٍ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: ثنا الْحَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّهُ يُلْقَى فِيهِ الْجِيَفُ وَالْمَحَائِضُ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يَنْجُسُ»


১. মুহাম্মদ ইব্‌ন খুযায়মা ইবন রাশিদ আল-বসরী (রহ.)...... আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ বী'রে বুযা'আহ (নামক একটি কূপের) পানি দিয়ে উযু করতেন। বলা হল, হে আল্লাহ্ রাসূল! এই কূপটি তো এমন যে, তাতে মৃত প্রাণী, হায়যে ব্যবহৃত কাপড়ের টুকরো ফেলা হয়ে থাকে। তখন তিনি বললেন: পানি নাপাক (কলুষিত) হয় না।


٢ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، وَسُلَيْمَانُ أَبُو دَاوُدَ الْأَسَدِيُّ، قَالَا: ثنا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ سَلِيطِ بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّهُ يُسْتَقَى لَكَ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُطْرَحُ فِيهَا عَذِرَةُ النَّاسِ، وَمَحَائِضُ النِّسَاءِ، وَلَحْمُ الْكِلَابِ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»


২. ইবরাহীম ইব্‌ন আবু দাউদ (র) ও সুলায়মান ইব্‌ন আবু দাউদ আসাদী (র)...... আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, একবার বলা হল, হে আল্লাহ্ রাসূল! আপনার জন্য বী'রে বুযা'আহ থেকে পানি আনা হয়, অথচ তা এমন (অরক্ষিত) কুয়ো, যাতে লোকদের (মল), নারীদের হায়যে ব্যবহৃত কাপড়ের টুকরা এবং কুকুরের গোশত ফেলা হয়ে থাকে। তিনি বললেন, এ পানি তো পাক, একে কোন বস্তু কলুষিত করতে পারে না।


٣ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ: ثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبِرْكِيُّ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ الْقَسْمَلِيُّ قَالَ: ثنا مُطَرِّفٌ عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي نَوْفٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: "انْتَهَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَتَتَوَضَّأُ مِنْهَا وَهِيَ يُلْقَى فِيهَا مَا يُلْقَى مِنَ النَّتْنِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «الْمَاءُ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»


৩. ইবরাহীম (র) বর্ণনা করেন যে....... আবু সাঈদ খুদরী (রা.) এর পুত্র তাঁর পিতা আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ-এর খিদমতে উপস্থিত হলাম, আর তিনি বী'রে বুযা'আ থেকে উযূ করছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তা থেকে উযূ করছেন? অথচ তা এমন কুয়ো, যাতে ময়লা ফেলা হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ্ বললেন: এ পানিকে কোন বস্তু কলুষিত করতে পারে না।


٤ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا أَصْبَغُ بْنُ الْفَرَجِ، قَالَ: ثنا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَحْيَى الْأَسْلَمِيِّ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ: «دَخَلْنَا عَلَى سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ فِي أَرْبَعِ نِسْوَةٍ، فَقَالَ: لَوْ سَقَيْتُكُمْ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ لَكَرِهْتُمْ ذَلِكَ، وَقَدْ سَقَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ مِنْهَا بِيَدِي»


৪. ইবরাহীম ইব্‌ন আবী দাউদ (রহ.)...... মুহাম্মদ ইব্‌ন আবী ইয়াহইয়া আসলামী (রহ.)-এর মাতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার আমরা চারজন নারী সাহল ইবন সা'দ (রা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বী'রে বুযা'আ থেকে পানি পান করাই তাহলে তোমরা তা অপছন্দনীয় মনে করবে। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ্ কে নিজ হাতে তা থেকে পানি পান করিয়েছি।


٥ - حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ يَحْيَى، قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: أنا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ النَّخَعِيُّ، عَنْ طَرِيفٍ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، أَوْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرِنَا، فَانْتَهَيْنَا إِلَى غَدِيرٍ وَجِيفَةٍ، فَكَفَفْنَا وَكَفَّ النَّاسُ، حَتَّى أَتَانَا رَسُولُ اللهِ ﷺ، فَقَالَ: مَا لَكُمْ لَا تَسْتَقُونَ؟ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ، هَذِهِ الْجِيفَةُ. فَقَالَ: «اسْتَقُوا، فَإِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ. فَاسْتَقَيْنَا وَارْتَوَيْنَا» . فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذِهِ الْآثَارِ، فَقَالُوا: لَا يُنَجِّسُ الْمَاءَ شَيْءٌ وَقَعَ فِيهِ، إِلَّا أَنْ يُغَيِّرَ لَوْنَهُ، أَوْ طَعْمَهُ، أَوْ رِيحَهُ، فَأَيُّ ذَلِكَ إِذَا كَانَ، فَقَدْ نَجِسَ الْمَاءُ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ، فَقَالُوا: أَمَّا مَا ذَكَرْتُمُوهُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ فَلَا حُجَّةَ لَكُمْ فِيهِ؛ لِأَنَّ بِئْرَ بُضَاعَةَ قَدِ اخْتُلِفَ فِيهَا مَا كَانَتْ، فَقَالَ قَوْمٌ: كَانَتْ طَرِيقًا لِلْمَاءِ إِلَى الْبَسَاتِينِ، فَكَانَ الْمَاءُ لَا يَسْتَقِرُّ فِيهَا، فَكَانَ حُكْمُ مَائِهَا كَحُكْمِ مَاءِ الْأَنْهَارِ، وَهَكَذَا نَقُولُ فِي كُلِّ مَوْضِعٍ كَانَ عَلَى هَذِهِ الصِّفَةِ وَقَعَتْ فِي مَائِهِ نَجَاسَةٌ، فَلَا يَنْجُسُ مَاؤُهُ إِلَّا أَنْ يَغْلِبَ عَلَى طَعْمِهِ أَوْ لَوْنِهِ أَوْ رِيحِهِ أَوْ يُعْلَمَ أَنَّهَا فِي الْمَاءِ الَّذِي يُؤْخَذُ مِنْهَا، فَإِنْ عَلِمَ ذَلِكَ كَانَ نَجِسًا، وَإِنْ لَمْ يُعْلَمْ ذَلِكَ كَانَ طَاهِرًا.


৫. জাবির অথবা আবু সা‘ঈদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা একবার এক সফরে রাসূলুল্লাহ্ -এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় আমরা একটি জলাশয়ের কাছে পৌঁছালাম; যাতে মৃত (প্রাণী) পড়ে রয়েছিলো। আমরা বিরত থাকলাম এবং লোকেরাও বিরত থাকল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ আমাদের নিকট এলেন এবং বললেন, তোমাদের কি হয়েছে, পানি পান করছ না কেন? আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! এই মৃত প্রাণীর কারণে। তিনি বললেন, তোমরা পান কর। কেননা পানিকে কোন বস্তু কলুষিত করতে পারে না। সুতরাং আমরা অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে পান করলাম। পর্যালোচনা একদল আলিম এই সমস্ত হাদীসের মর্ম গ্রহণ করে বলেছেন, পানিতে পতিত কোন বস্তু পানিকে কলুষিত করতে পারে না যতক্ষণ না এর রং বা স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হবে। পক্ষান্তরে ওগুলোর কোন একটি পরিবর্তিত হয়ে গেলে পানি নাপাক হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপরাপর আলিমগণ তাদের বিরোধিতা করে বলেছেন, 'বী'রে বুযা'আ' সম্পর্কে যা কিছু তোমরা উল্লেখ করেছ এতে তোমাদের অনুকূলে কোন প্রমাণ নেই। যেহেতু 'বীরে বুষা'আ' "সম্পর্কে মতবিরোধ রয়েছে যে, তা কী ছিলো? একদল (বিশ্লেষক) আলিম বলেন যে, তা বাগানসমূহে প্রবহমান পানির পথ ছিলো। তাতে পানি স্থির থাকত না। অতএব এর পানির বিধান নদীসমূহের বিধানের অনুরূপ হবে। অনুরূপভাবে আমরা এরূপ প্রত্যেক স্থানের ব্যাপারে অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করব যে, যদি তাতে নাপাকি পতিত হয় তাহলে তা যতক্ষণ পর্যন্ত এর স্বাদ বা রং বা গন্ধকে পরিবর্তত না করবে, পানি নাপাক হবে না। অথবা যদি জানা যায় যে, তা থেকে নেয়া পানির মধ্যে নাপাকির অংশ বিদ্যমান আছে, তাহলে পানি নাপাক হয়ে যাবে। আর যদি তা জানা না যায় তাহলে পানি পাক হিসাবে বিবেচিত হবে। বীরে বুয়া'আ সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি এটি ইমাম ওয়াকিদী (র) থেকে বর্ণিত আছে। আমার নিকট তা আবূ জা'ফর আহমদ ইব্‌ন আবূ ইমরান বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু আবদুল্লাহ্ মুহাম্মদ ইব্‌ন শুজা ছালজী (র) সূত্রে ওয়াকিদী (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সেই কুয়োটি এইরূপই ছিলো। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এটিও একটি প্রমাণ যে, ফকীহগণ নিম্নোক্ত বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, যখন কুয়োতে নাপাকি পতিত হয়ে পানির স্বাদ বা গন্ধ বা রং-কে প্রভাবিত করে তাহলে এর পানি নাপাক হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে 'বীরে বুযা'আ' সম্পর্কে হাদীসে এমন কিছুর উল্লেখ নেই। এতে তো শুধু এটুকু ব্যক্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ কে বী'রে বুযা'আ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এবং তাঁকে বলা হয়েছে যে, এতে কুকুর এবং হায়যে ব্যবহৃত কাপড়ের টুকরো ফেলা হয়ে থাকে। তিনি বললেন, পানিকে কোন বস্তু নাপাক করতে পারে না। বস্তুত আমরা জ্ঞাত আছি যে, যদি কোন কুয়োতে এর চাইতে কম কিছুও পতিত হয় তাহলে এর পানির গন্ধ এবং স্বাদ পরিবর্তিত না হওয়া অসম্ভব। আর এটি যুক্তিসঙ্গত এবং পরিজ্ঞাত বিষয়। বস্তুত যখন বিষয়টি এরূপ এবং রাসূলুল্লাহ্ তাঁদের জন্যে উক্ত পানি ব্যবহার করা বৈধ সাব্যস্ত করেছেন আর এটি তো সকলের কাছে স্বীকৃত যে, সেটি পানি পূর্বোল্লিখিত কারণসমূহের কোন কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায় নি।

1 / 1